লুয়াং প্রবাং, লাওস: ভ্রমণ কাহিনী (পডকাস্ট)

Luang Prabang Laos, Travel Podcast in Bengali!

লুয়াং প্রবাং: সমস্ত গল্প এখানে পড়ুন

লুয়াং প্রবাং, লাওস একটি ইউনেস্কো পৃথিবী বিখ্যাত পুরানো, ছোট্ট শহর। এর ইতিহাস এবং ঐতিহ্য ফিরে তাকায় 500 বছর দূরের এক পৃথিবীর দিকে। 

মেকং আর নাম খান এই দুই নদীর ধারে অবস্থিত লুয়াং প্রবাং পেরিয়ে এসেছে ইতিহাসের নানা ঝড়ঝপটা। কখনো চীন, কখনো জাপান এবং দীর্ঘকালীন পশ্চিমী ফরাসি দেশের কলোনির উৎপাতে লুয়াং প্রবাং এর বেশিরভাগ ঐশ্বর্য হারানোর পথে বসেছিল।

ভিয়েতনাম যুদ্ধের সময় দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অন্যান্য দেশ গুলির মত ( পড়ুন ভিয়েতনাম) লাওস স্বাধীনতা অর্জন করে। এবং একটি কমিউনিস্ট দেশ হিসেবে নিজের আত্ম প্রকাশ ঘটায়।

1989 সাল পর্যন্ত লাওস একটি বন্ধ অর্থনীতির দেশ ছিল। এত সহজে ওখানে ঘুরতে যাওয়া যেত না। ভ্রমণের অর্ধেক মজাই স্বাধীনতায়, তা যদি ব্যুরোক্রেসির লাল ফিতের ফাঁসে আটকে যায় তাহলে তো মুশকিল।

যাই হোক নব্বইয়ের দশকে পেরেস্ত্রৈকার ধাক্কায় লাওস দরজা খুলে দিল বাইরে পৃথিবীর জন্য। 

তারপর ইউনেস্কো কমিটি লুয়াং প্রবাং এর পুরানো বৌদ্ধ স্থাপত্য এবং ফরাসিদের ফেলে যাওয়া অসাধারণ পশ্চিমী সভ্যতার মিশ্রণে মোহিত হয়ে একে ইউনেস্কোর লিস্টে অন্তর্ভুক্ত করে।

ব্যাংকক থেকে আপনি সরাসরি লুয়াং প্রবাং উড়ে যেতে পারেন ব্যাংক এআরের ছোট প্লেনে। অথবা চিয়াংমাই থেকে একটি পুরানো কাঠের বজরা নিয়ে মেকং নদীর উপরে ভেসে পৌঁছে যেতে পারেন লুয়াং প্রবাং। 

ভারতীয়দের জন্য লাওসে মোটামুটি প্রত্যেকটি আন্তর্জাতিক বর্ডার ক্রসিং ভিসা অন এরাইভাল দেয়। 

লুয়াং প্রবাং এ আপনি থাকুন তিন থেকে চারদিন। একদিন সকালবেলা একটি টুকটুক ভাড়া নিয়ে বেরিয়ে চলুন কুয়াংশি জলপ্রপাতের দিকে। আর দুদিন ছুটি বেশি নিয়ে নিন, বেরিয়ে পড়ুন নং খিও নামের একটি পাহাড়ি গ্রামের দিকে। নাম ও নামের একটি পাহাড়ি নদী বয়ে গিয়েছে গ্রামের পাশে। নদীর জলের রং শান্ত কমলা।

রাস্তায় পড়বে কয়েকটি প্রাচীন তাঁতিদের গ্রাম। যদি দু মিনিটের জন্য দাঁড়িয়ে যান তারা আপনাকে আপন করে নেবে “বাকি” অনুষ্ঠানের মাধ্যমে। চোখ রাখুন ঘনসবুজ ধান ক্ষেতের দিকে। চোখ রাখুন কাঠের বাড়ি গুলির দিকে যা বেরিয়ে এসেছে পুরানো সোভিয়েত প্রোপাগান্ডা ম্যাগাজিনের পাতা থেকে। 

লুয়াং প্রবাং অত্যন্ত সুন্দর একটি শহর। শান্ত, কিছুটা ঘুমন্ত। খুব বেশি লোক এখনো এর সন্ধান পেয়ে ওঠেনি। তবে যারা পেয়েছে তারা মেকং নদীর মোহতেই বারবার ফিরে যায় এই প্রাচীন শহরে। 


This post may contain affiliate links. Please read the disclosure post. If you have liked the article, you may support it by buying using these links without any extra cost to you.

Let’s stay connected on FacebookInstagramTwitter! You may also consider joining my mailing list. I send travel and photography related emails only once a month!

Leave a Comment